করোনায় ইতালিতে প্রাণ হারালেন ৩৭ চিকিৎসক

0
57

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

করোনায় বিপর্যস্ত ইতালিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭ চিকিৎসক। এছাড়া করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন আরও ৬ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী।

বৃহস্পতিবার ইতালিয়ান ফেডারেশন অব মেডিক্যাল প্রফেশনালস বলছে, বুধবারও দেশটির বার্গামো, ফগিনা এবং ন্যাপলসে অন্তত তিন চিকিৎসক করোনায় মারা গেছেন। এনিয়ে করোনায় প্রাণ হারালেন ৩৭ চিকিৎসক।

দেশটির একটি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বলেছেন, ইতালিতে ৬ হাজার ২০৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; যা দেশের মোট আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ শুরু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ হাজার ৩৮৬। চীনে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও মৃত্যুতে দেশটিকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। চীনে এই ভাইরাসে ৩ হাজার ২৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটলেও ইতালিতে মারা গেছেন তার দ্বিগুণেরও বেশি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৫০৩ এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৩৬২ জন।

চিকিৎসক ফেডারেশনের প্রধান ফিলিপ্পো আনেলি বলেন, প্রত্যেকদিন আমরা প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছি। তাদের মৃত্যুৃতে চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা শোকাহত। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকদের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলে সতর্ক করে দিয়েছে এই ফেডারেশন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, করোনায় সরাসরি সংক্রমিত না হলেও অনেক চিকিৎসক হঠাৎই মারা যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার দেশটির এক নার্স করোনার পরীক্ষার পজিটিভ ফল আসার পর এই ভাইরাস যাতে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আত্মহত্যা করেন। করোনায় ইতালির সবচেয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চল লোম্বার্দির একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন ওই নার্স।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এই করনোভাইরাসের উৎপত্তি হয়। চীনে ৩ হাজার ২৮৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়ে এই ভাইরাস এখন বিশ্বের ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীন করোনার বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হলেও বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৭৫ এবং মৃত ২২ হাজার ১৭৪ জনে। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ জন।

সূত্র : ডেইলি মেইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here