লিটার প্রতি ৫০০ রুপি করে বিক্রি হচ্ছে গোমূত্র

0
53

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী সাত হাজারের অধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাসটির প্রতিষেধক হিসেবে ভারতে গোমূত্রের বিধান দিয়েছেন গেরুয়া পার্টির কেউ কেউ। এবার সেই গোমূত্র বিক্রি করে ডানকুনির চাকুন্দি থেকে গ্রেপ্তার হলেন শেখ মামুদ নামে একজন। 

কলকাতাভিত্তিক এক সংবাদমাধ্যম জানায়, সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল থেকে তিনি প্রতি লিটার গোমূত্র ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি দরে বিক্রি করছিলেন। যার প্রেক্ষিতে ডানকুনি থানার আইসি অনিরুদ্ধ চৌধুরী তাকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ জানায়, প্রতারণা ও বিপজ্জনক রোগ ছড়ানোর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পানীয় বিক্রির অভিযোগে থানায় ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ডানকুনি থানার আইসি অনিরুদ্ধ চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন সকালে দিল্লি রোড ঘেঁষা চাকুন্দি হাওড়া ব্রিজ এলাকায় পানির বোতলে গোমূত্র ভরে বিক্রি করছিলেন মামুদ। গত কিছুদিন যাবত সংবাদমাধ্যম ও নানা সূত্রে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনে অনেকেই এই গোমূত্র কিনতে জড়ো হন।

 

অভিযোগ রয়েছে, করোনা নিয়ে সৃষ্ট আতঙ্কের সুযোগে মামুদ চড়া দামে গোমূত্র বিক্রি শুরু করেন। মূলত বড় প্লাস্টিকের কন্টেইনারে ভরে এই গোমূত্র বিক্রি করছিলেন তিনি। যার প্রেক্ষিতে অনেকেই উপশম খুঁজতে তা কেনেন।

চন্দননগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ূন কবির বলেছেন, আপাতত মামুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য রয়েছে, ধৃতকে জেরা করলে তা জানা যাবে। এর পিছনে আদৌ কোনো চক্রান্ত কাজ করছে কি না, এবার তা জানার চেষ্টা চলছে।

তাছাড়া মামুদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা গোমূত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনার থাবায় দুইজনের প্রাণহানিসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীনের সীমা অতিক্রম করে এর মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৬২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ৭ হাজার ১৬৬ জনে পৌঁছেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here