করোনা প্রতিরোধে কার্যকর মাস্ক কোনটি?

0
229

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ। এদের মধ্যে দুজন ইতালিফেরত। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ তিনজন ছাড়াও আরও দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেসব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

সর্দি-কাশি এই ভাইরাসের প্রধান উপসর্গ। এই রোগের এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এই রোগ প্রতিরোধের জন্য পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ।

এই ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক পরা ও ভালোভাবে হাত ধোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে মাস্ক ব্যবহার করলেও করোনা প্রতিরোধে কী ধরনের মাস্ক পরা ভালো তা আমরা অনেকেই জানি না।

আসুন জেনে নিই করোনা প্রতিরোধে কার্যকর মাস্ক কোনটি?

১. ডিসপোজেবল মাস্ক, যাকে সার্জিক্যাল ফেস মাস্কও বলা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরাও এটি ব্যবহার করেন। এই মাস্ক চিকিৎসক ও রোগী উভয়কেই সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এই মাস্ক বাতাসের ছোট ছোট কণা আটকাতে পারে না। আর ৩-৮ ঘণ্টার বেশি পরা উচিত নয়। এটি ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে না।

২. N95 রেসিপিরেটর মাস্ক অস্ত্রোপচারের মাস্কের চেয়েও বেশি কার্যকর। কারণ এটি “ইনসাইড টু আইটসাইড” অর্থাৎ বাইরে থেকে ভেতরে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণকে প্রতিরোধ করে। এই মাস্কটি করোনা, H1W1 এবং সার্সের মতো ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়তা করে।

২. করোনাভাইরাসের থেকে সুরক্ষা পেতে N95 রেসিপিরেটরের ব্যবহার বেশি কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ এই মাস্কগুলো ভালো ফিট হয় এবং প্রায় ০.৩ মাইক্রোনের ব্যাসযুক্ত ছোট কণাগুলোকে ফিল্টার করে দেয়। এটি বাতাসে উপস্থিত ছোট কণার ৯৫ শতাংশকে অবরুদ্ধ করে।

তবে করোনাভাইরাসটি প্রায় ০.১২ মাইক্রোন ব্যাস পরিমাপ করে। তাই এটি সংক্রমণ রোধে অকার্যকর হতে পারে বলে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

৩. FFP1 মাস্ক মানের দিক থেকে ভালো নয়। সাধারণত এতে পরিস্রাবণ ৮০ শতাংশ এবং ছিদ্র ২০ শতাংশ হয়। এটি বাড়িতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. FFP2 মাস্ক FFP1-এর তুলনায় বেশি ভালো। এতে পরিস্রাবণ ৯৪ শতাংশ এবং ছিদ্র ৮ শতাংশ পর্যন্ত হয়। বর্তমানে এই মাস্কগুলো করোনাভাইরাস এড়াতে পরা হচ্ছে।

৫. FFP3 সর্বোচ্চ মানের মাস্ক। যার মধ্যে পরিস্রাবণ সাধারণত ৯৯ শতাংশ এবং ছিদ্র প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত হয়। করোনা, সার্স এবং অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাস থেকে বাঁচতে বিদেশে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভারতের মতো জনাকীর্ণ দেশে এটি কতটা কার্যকর হবে তা বলা যায় না। কিন্তু এটি নিশ্চিত যে মাস্কটি কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে দেবে না।

করোনা ভাইরাস: কখন মাস্ক পরা জরুরী

ভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের পর বিশ্বজুড়ে মুখে মাস্ক পরার পরিমাণ বেড়েছে। একটি দেশ বা অঞ্চলে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে সেখানে মানুষকে মাস্ক পরতে হবে কি-না।

রোববার (০৮ মার্চ) বাংলাদেশে প্রথমবার তিনজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

মাস্ক পরে এ রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা যাবে কি-না, এনিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে অধিবাসীদের ভিড় বা জন সমাবেশের স্থানে মাস্ক পরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিপরীত পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলেন, ‘যারা সুস্থ, মাস্ক তাদের ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। উল্টো বারবার মাস্ক পরা ও খোলার ফলে সেটি ভাইরাসের আধার হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে ভাইরাল জীবাণু মাস্কে আটকে আপনি নিজেকে নিজে সংক্রমিত করতে পারেন। মানুষ যা মনে করে, মাস্ক আসলে সে কাজ করে না।’

মাস্ক যাদের পরা উচিত: ‘যারা প্রকৃতপক্ষেই অসুস্থ, তাদের মাস্ক পরা উচিত। এতে তাদের মুখ বা নাক থেকে ভাইরাস বা জীবাণু ছড়ানোর পরিমাণ কমবে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক পরা দরকার। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত মাস্ক কিনলে, যে ডাক্তার ও নার্সরা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন, তাদের জন্য মাস্কের সরবরাহ কমে যেতে পারে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here