দেশের পাঁচ তারকা হোটেলগুলো যেন এক একটি আওয়ামী ক্লাব!

0
73

ডেস্ক রিপোর্ট। ।

পাপিয়াকাণ্ড নিয়ে এখন আওয়ামী লীগে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। একাধিক গোয়েন্দাসংস্থা পাপিয়ার মত আর কারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন সে ব্যাপারেও অনুসন্ধান করছে। এই অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, শুধু পাপিয়া নয়, সন্ধ্যায় সবগুলো পাঁচ তারকা হোটেল যেন আওয়ামী ক্লাবে পরিণত হয়। এই পাঁচ তারকা হোটেলের বার, পুলসাইটগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা- পাতি নেতারা।

এখানে তারা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা ঠিকাদারদের জমজমাট আড্ডা বসে। এই অবস্থা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। সান্ধ্যকালীন পাঁচ তারকা হোটেলে আওয়ামী লীগের কারা যাচ্ছে বা না যাচ্ছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এইসব হোটেলগুলোতে সন্ধার পর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে যে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের তিন তলায় রয়েছে পুলসাইট। এই পুলসাইটে সন্ধাকালীন সময়ে একাধিক নেতা যান। এর মধ্যে দুয়েকজন এমপিও নিয়মিত এখানে যান। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন তদবির, ঠিকাদারদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক ছাড়াও তারা এখানে বিভিন্ন উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানান।

সোনারগাঁও হোটেলের বার এবং পুলসাইট দুটোই প্রায় আওয়ামী লীগের পাতি নেতাদের দখলে থাকে। এমনকি ছাত্রলীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই সোনারগাঁও এর পুলসাইট এবং বারে যান। সান্ধ্যকালীন সময় আড্ডা, তদবিরে মেতে উঠেন। ওয়েস্টিন হোটেল এখন নানা কারণেই আলোচিত হচ্ছে। রেডিসন হোটেলে যদিও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যাতায়াত কম কিন্তু সেখানেও কয়েকজন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী স্থানীয় পর্যায়ের নেতা যান বিভিন্ন সময়। রেডিসনে এ ধরণের আসন বা আড্ডা কম হয়। আওয়ামী লীগের নেতাদের পছন্দ রিজেন্সি এবং লা মেরিডিয়ান। এ দুটোর বার এবং সুইমিংপুল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা যায়।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের কিছু নেতার অবৈধ অর্থ হয়েছে। সেই অর্থ উড়ানোই হলো এদের একটি বড় উদ্দেশ্য। আবার অনেকে যান ঠিকাদারদের আমন্ত্রণে। ঠিকাদাররা তদবিরের জন্য এই সমস্ত স্থানীয় নেতা, পাতি নেতাদের ব্যবহার করেন। বিশেষ সুবিধার জন্য তারা আওয়ামী লীগের নেতা- পাতি নেতাদের আপ্যায়ন করেন।

এছাড়াও অনেক নেতাই এখন টেন্ডার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব টেন্ডার ব্যবসার জন্য তারা মধ্যস্তরের আমলা, প্রকল্প পরিচালক বা এই জাতীয়দের আমন্ত্রণ জানান। তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন চূড়ান্ত করেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর কিছুদিন পাঁচ তারকা হোটেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের আনাগোনা বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু গত জানুয়ারিতে আবার ব্যাপকভাবে আনাগোনা শুরু হয়েছে। যারা এখানে যান তাদের প্রায় সকলেরই পরিচয় এখন গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। দেখার বিষয় কে কি কারণে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের পর এ ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here