দিন দিন কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ

0
80

ফয়েজ আহম্মেদ দৈনিক যুগের বার্তা।

দেশে প্রাকৃতিক উৎস থেকে দিন দিন মাছ আহরণ কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক অবক্ষয়, মুক্ত জলাশয় থেকে নির্বিচারে মাছ আহরণ, প্রজননক্ষম মাছ মারা, প্রজনন ক্ষেত্র বিনষ্ট করার কারণে প্রকৃতিক জলাশয় থেকে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

ষাটের দশকে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মোট চাহিদার ৯০ ভাগ পাওয়া গেলেও এখন তা অনেক খানি হ্রাস পেয়েছে। এমন কী ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকেও প্রাকৃতিক উৎস থেকে ৮৪ ভাগ মাছ পাওয়া গেছে। বাকি ১৬ ভাগ মাছের চাহিদা চাষের থেকে নেওয়া হয়। এখন প্রাকৃতিক উৎস থেকে চাহিদা মাফিক মাছ আর পাওয়াই যাচ্ছে না। ভরসা করতে হচ্ছে চাষের মাছের ওপর।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তা থেকে উত্তরণে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে। যা সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার ও বাঁওড়ে মৎস্যবীজ ও মাছ উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৯ নামে অভিহিত হবে।

নীতিমালা প্রণয়নের কথা স্বীকার করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অসীম কুমার বালা বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। পরিস্থিতি বুঝতেই পারছেন। ভালো মাছ পাওয়া না গেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেবে।

কবে নাগাদ নীতিমালাটি চুড়ান্ত হবে জানতে চাইলে যুগ্মসচিব বলেন, একটু সময় লাগতে পারে। কারণ এর সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তা, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে সরকারি কর্মসূচি ও জনগণের অংশ গ্রহণে মৎস্য সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বেড়েছে।

আশির দশকের শুরুতে রুই জাতীয় মাছের প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনের জন্য দেশে সরকারি ভাবে মৎস্যবীজ খামার, হ্যাচারি ও নার্সারি গড়ে উঠে। মৎস্যবীজ উৎপান খামারের গুণগত মানসম্পন্ন রেণু, পোনা, চিংড়ির পিএল, জুভেনাইল ও মাছ চাষিদের কাছে সুলভমূল্যে বিক্রি হয়। বাঁওড় সমূহে পোনা উৎপাদন করে তা সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।

সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন, হ্যাচারি, নার্সারিতে একর প্রতি উৎপাদন ব্যয় ও উৎপাদিত রেণু, পোনামাছ, চিংড়ি পিএল, জুভেনাইল ও মাছ বিক্রির দাম নির্ধারণে কর্মপরিকল্পণা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে শৃঙ্খলা আনার জন্য সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার ও বাঁওরে মৎস্যবীজ এবং মাছ উৎপাদন এবং বিপণন নীতিমালা জরুরী ভিত্তিতে দরকার।

নীতিমালায় মাছের সংজ্ঞায় নরম ও শক্ত কাঁটার মাছ, স্বাদু ও লবনাক্ত পানির চিংড়ি, উভচর জলজ প্রাণী বিশেষ করে কচ্ছপ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক প্রাণী, ব্যাঙ এবং সরকারি গেজেটে ঘোষিত অন্য কোন প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে।

নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন, সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার ব্যবস্থাপনা, গুণগত মানসম্পন্ন রেণু, পোনা, চিংড়ি পিএল প্রজননক্ষম মাছ উৎপাদন, উৎপাদনের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ, সরকারি বেসরকারি খামারে উৎপাদিত মাছের পোনা নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা। দেশী প্রজাতিরসহ অন্যান্য মাছ উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে মাছ চাষ সম্প্রসারণ, দেশী প্রজাতির ছোট মাছসহ বিদেশী কার্প জাতীয় ও অন্যান্য মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন করে মাছ চাষীদের মধ্যে সম্প্রসারণ এবং বাঁওড়ে সমাজভিত্তিক মৎস্য চাষের কৌশল ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here