লাকসামে বোরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে ব্লাস্ট রোগ-দিশেহারা কৃষক

0
62

এম,এ মান্নানঃ দৈনিক যুগের বার্তা।।

লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কান্দীরপাড় ও মুদাফরগন্জ ইউনিয়ন এলাকায় এই রোগের সংক্রমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষকের বোরো ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নেক ব্লাস্ট রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কৃষকের উঠতি ফসল পুড়ে নষ্ট হবার উপক্রম।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করেও কোনো প্রকার প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। তারপরও হাল না ছেড়ে দিনভর কৃষকরা ব্যস্ত থাকছেন ফসলি ক্ষেত রক্ষার কাজে। ফসলি ক্ষেত ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কিভাবে ব্যাংক ও মহাজনের ঋণের টাকা শোধ করবেন এই চিন্তায় দিশেহারা চাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এবার ৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে।

কান্দীরপাড়া ইউনিয়নের বোরো চাষি আজগর, শাহাজান, আউয়াল, মন্জুর আলম জানান, কিছু কিছু বোরো ধান ক্ষেত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

ধানের শীষগুলো আস্তে আস্তে সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। শীষের গোড়ায় প্রথমে এ রোগ দেখা দিচ্ছে। পরে আস্তে আস্তে পুরো শীষকে গ্রাস করছে। শীষের ধানগুলো চিটা হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু স্প্রে করে কোনও কাজ হচ্ছে না।বিশেষ করে ২৮ জাতের ধানে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

অপরদিকে কৃষক এমরান, খোকন, আবদুল রশিদ জানান, এ রোগের আক্রমণে উৎপাদন কমে যাবে। কোন কোন ক্ষেতের ধান সব চিটা হয়ে যাচ্ছে। ধানের ফলন না পেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমাদের মারাত্মক বিপাকে পড়তে হবে। ভামড্যা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আলী মিয়া বলেন, ‘আমি সাড়ে ৩ বিঘা বর্গা নেওয়া জমিতে বোরো চাষ করছি। এখন পুরো ধান ক্ষেতে এমন রোগে ধরছে, সন্ধ্যায় রেখে যাই এক রকম আর সকালে এসে দেখি আরেক রকম। দিন দিন সব ধানের শীষ শুকিয়ে যাচ্ছে।

একদিকে সেলোমেশিনের খরচ অন্যদিকে মহাজনের জমি বাবদ ধান। কোনটা কিভাবে দেব ভেবে পাচ্ছি না। বাড়িতে ছাগল, মুরগি যা ছিল সব বিক্রি করে আবাদ করেছি এখন তো ধানের সঙ্গে আশা-ভরসা সব জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

কোনও ওষুধ দিয়েও তো কাজ হচ্ছে না। এখন আমি কী খাব আর জমির মালিককে কী দেব?’ লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মো.রেজাউল হক জানান, আমরা বসে নেই, কৃষকদের সঙ্গেই আছি।

কৃষকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠকসহ মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ব্লাস্ট ছত্রাকজনিত ও বীজবাহিত রোগ।

আকাশ মেঘলা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে বা গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ায়ও এ রোগের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। মাঠকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা কৃষকের ফসল রক্ষার্থে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here