নাঙ্গলকোটে পিতার বিরুদ্ধে নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ

0
85

মাসুদুর রহমান, লাকসাম।।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পিতার বিরুদ্ধে নিজের ঔরসজাত কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুজকরা দক্ষিণ পাড়া ফরাজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুজকরা দক্ষিণ পাড়া ফরাজি বাড়ির অভিযুক্ত আনিছ মিয়া (৫৮) নিজ গ্রামের চা দোকানদার। দাম্পত্য জীবনে তিনি তিন বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যান। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রী, তার সন্তান এবং পূর্বোক্ত স্ত্রীর সন্তানাদি নিয়েই তার সংসার। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পুত্রবধূর ডেলিভারি জনিত কারণে তার তৃতীয় স্ত্রী এবং অন্যান্য সন্তানরা হাসপাতালে থাকার সুযোগে নিজের ঔরসজাত কন্যাকে (৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী) ধর্ষণ করে আনিছ মিয়া। পরদিন শুক্রবার তার স্ত্রী-সন্তানরা বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী কিশোরীর শারিরীক অবস্থার অবনতি দেখে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে আনিছ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী (ভুক্তভোগী কিশোরীর মা) তাসলিমা বেগম স্বামীর অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে এ বিষয়ে পুজকরা দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহদী হাসানের কাছে ইসলামী শরিয়তের বিধান জানতে চান এবং স্বামীর উপযুক্ত বিচার দাবি করেন। ইমাম মাহদী হাসান তাকে বিষয়টি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানানোর পরামর্শ দেন। যাতে সমাজে এ ধরণের ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিকে এ ঘটনা গ্রামে জানাজানির পর প্রতিবাদমূখর হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী। গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি দেখে আত্মগোপন করেন আনিছ মিয়া। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান স্ত্রী তাসলিমা বেগম। তবে পুজকরা দক্ষিণ পাড়ার অর্ধশতাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা জানান, আনিছ মিয়া তার নিজ কন্যাকে ধর্ষণের বিষয়টি তার স্ত্রীর মাধ্যমেই তারা শুনেছেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার অপকর্মের দায়ে সামাজিক ভাবে তার বিচার করা হয়েছিলো। প্রতিবারই সে প্রতিজ্ঞা করেছে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অপকর্মে লিপ্ত হবে না। সম্প্রতি নিজ কন্যাকে ধর্ষণের বিষয়টি তার স্ত্রীর মাধ্যমে গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সে তার স্ত্রীকে তালাকের ভয় দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি গ্রামে জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সে আত্মগোপনে আছে।
পুজকরা দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহদী হাসান বলেন, ‘গত দুই দিন আগে আনিছ মিয়ার স্ত্রী আমার কাছে এসে তার স্বামী কর্তৃক নিজ কন্যা ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি আমার কাছে স্বামীর বিচার দাবি করলে আমি তাকে বিষয়টি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছি।’
পুজকরা দক্ষিণ পাড়ার সমাজসেবক মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আনিছের অপকর্মের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা জানতে একাধিক বার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও করেছি। ঘটনাটি গ্রামে জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সে আত্মগোপনে আছে।’
স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘তার স্ত্রীর মাধ্যমে বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হওয়ার পর আমিও শুনেছি। তবে অভিযুক্ত আনিছ মিয়া পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে আমি কখনোই সমর্থন করি না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here