এবার গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে যা বললেন নুসরাত

0
68

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলন চাঁপা হল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুসরাত জাহান শিমু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তুলে ধরেন সদ্য পদচ্যুত হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও পদ নিয়ে দুর্নীতির বিভিন্ন বিষয়গুলো।

পাঠকদের সুবিধার জন্য উক্ত স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘স্ব-উপাধিত মানবিক ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বানী আপনাকে বলছি

‌‌“বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে আবেগ-ভালোবাসার এই প্রাণের সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী ‘গর্হিত কোন অপরাধ’ করিনি। আনীত অভিযোগের কতটা ষড়যন্ত্রমূলক আর অতিরঞ্জিত, সময় ঠিক বলে দেবে।”

আপনার এই কথা থেকে আবারও এটাই জাতিকে জানাতে চাচ্ছেন যে,নেত্রীকে ভুল বুঝানো হয়েছে কিন্তু ক্ষমতার অন্ধমোহে আপনি হয়তো ভুলে গেছেন যে, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ভুল বুঝালেই তিনি ভুল বুঝবেন এমন মানুষ তিনি নন। বিচক্ষণতার বিচারে তিনি আপোষহীন নেত্রী কারণ উনার ধমণীতে বইছে আপোষহীন নেতা বঙ্গবন্ধুর রক্ত।

আপনার ও আপনাদের সমস্ত অপকর্মের তথ্য প্রমাণ নিয়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। ছাত্রলীগ আপার কতোটা আবেগ আর ভালোবাসার জায়গা তা আমরা যারা ছাত্রলীগ করেছি, আপার দুয়ারে যাদের একবারও যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তারা জানি। আপনি আরো ভালোভাবেই জানেন যেহেতু আপনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, আপার সরাসরি স্নেহধন্য হওয়ার সৌভাগ্য আপনার বহুবার হয়েছিলো। সে স্থান আপনি নিজেই হারিয়েছেন নিজের কর্মদোষে।

আপনার নিজেকে জাহির করার, অন্যান্য লোক দেখানো কার্যক্রমের মতো আপনার আজকের স্ট্যাটাসটাও জাস্ট সহানুভূতি নেওয়ারই প্রক্রিয়া ছিলো বলে আমার মনে হচ্ছে।

কথায় কথায় সিন্ডিকেট সিন্ডিকেট বলে যে নেতাদের নিয়ে আপনি বারবার নোংরা খেলায় মেতেছেন, নানা প্রশ্ন তুলেছেন তাদের হাত ধরেই কিন্তু আপনার ছাত্রলীগ জীবনের পথচলা,পরিচয়সহ দুইবার কেন্দ্রীয় নেতাও হয়েছিলেন।

যাদের হাত ধরে ছাত্রলীগে পরিচয় পেয়েছিলাম, স্ব-পরিশ্রমের প্রতিদান পেয়েছিলাম দু চারবার মমতাময়ীর সরাসরি স্নেহধন্য হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো সে সব সিনিয়রদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

আপনার কথিত সিন্ডিকেটের (ছাত্রলীগের অগ্রজদের) কাছে জননেত্রীর প্রতি ও উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার শিক্ষাই পেয়েছি বারবার। আপনি নিজে আপনার কর্মীদের কি শিক্ষা দিয়েছিলেন বলতে পারেন?

২০১০ সালে ঢাকার বাইরে একেবারেই নতুন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেই প্রথমদিন নবীণ বরণের মিছিলে জয় বাংলা স্লোগানে গলা মিলিয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু। বড়ভাইদের সাথে বহুদিন একা একাই মিছিল করেছি, একটা একটা করে সহযোদ্ধা তৈরী করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ছাত্রীহলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হয়েছিলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্যও হয়েছিলাম। গত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ক্যান্ডিডেটও হয়েছিলাম, কারণ পরিশ্রম কারোর চেয়ে কম করিনি বরং নানা প্রতিকূলতায় আরো বেশীই পরিশ্রম করতে হয় আমাদের। যারা ঢাকার বাইরে রাজনীতি করেন তারা অন্তত বুঝতে পারবেন আমাদের পথচলা এতোটা সহজ না। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের পথ তৈরী করা ছিলোনা, আমাদের পথটা আমাদেরই তৈরী করতে হয়েছিলো।

আপনি নেতা হওয়ার পর আপনাকে আপনার মতো করে প্রটোকল দেইনি বলে নিজের পরিশ্রম, যোগ্যতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস ও গোয়েন্দা রিপোর্ট কোন অংশেই পিছিয়ে না থাকার পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগে স্থান পাইনি। বরঞ্চ নিজের ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করে আপনার পোষা শিশু অনুসারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলিয়েছেন আমি নাকি কোটায় পোষ্ট পেয়েছিলাম। এসবই শিখিয়েছিলেন তো আপনার অন্ধ কর্মীদের?আপনার এই অনুসারীরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে কি শিখাবে বলতে পারেন?

নিজে কি এমন মহান কাজ করেছেন যে কথায় কথায় আপার ছাত্রলীগ বলে নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করেন? আপনার অগ্রজরা কি বানের জোয়ারে ভেসে আসছিলো তাহলে?

আপা তো বলেনি আগের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি করতে, আপা তো বলেননি গ্রুপিং করতে? তাইলে আপনি কোন অধিকারে কমিটি করার সময় কে কার লোক সেটা বিচার করে যোগ্যদের বাদ দিয়ে নিজের কর্মীদের নেতা বানালেন?

মনে রাখবেন, যে ধারায় পথ চলা শুরু করেছিলাম সে ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। যতোদিন বেঁচে থাকবো এ ধারায়ই পথ চলবো ইনশাআল্লাহ।

এখনো জীবনের বহুপথ পাড়ি দিতে হবে আপনাকে, নিজের মুখ আর স্বভাবকে সংযত করুন। নিজেকে বিশাল মেধাবী নেতা মনে করেন আর এতটুকু বুঝেননা যে আপনি কি করতেছেন আর জাতি আপনাকে নিয়ে কি ভাবছে?

নতুন করে কিছু চাওয়ার নেই আসলে। মমতাময়ীকে মহান আল্লাহ ভালো রাখুক। জননেত্রীকে বিক্রি করে যেনো আর কোন ফেরিওয়ালা নিজের পকেট ভারী না করতে পারে এটাই চাওয়া থাকবে।

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে, জননেত্রী বিশ্বাস করে যে আমানত আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছেন সে আমানতের সম্মান আপনারা রক্ষা করবেন। ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং ঢাকার বাইরের ইউনিটগুলোকে তাদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ণ করবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here