ইতালিতে বাংলাদেশিসহ একদিনে ৫২৫ জনের প্রাণহানি

0
74

করোনাভাইরাসে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা কোনভাবেই যেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দিনদিন বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এদিকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১:৪২ মিনিটে পিয়াসেন্সা অঞ্চলে ৪.২ মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা মিলানো এবং জেনোভা অঞ্চল থেকেও অনুভূত হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার একজন বাংলাদেশিসহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ৫২৫ জন।

লোম্বারদিয়ার ক্রেমনা হাসপাতালে শাহাজান মির্জা (৩০) এক বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার দেশের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মুসলিমাবাদ গ্রামে। এই নিয়ে ইতালিতে মোট আটজন বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ইতালিতে এ পর্যন্ত ১২২ জন চিকিৎসক এবং ৩১ নার্সসহ প্রাণ হারিয়েছেন ২২ হাজার ১৭০ জন।

এদিন নতুন আক্রান্ত ৩ হাজার ৭৮৬ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৩৭ জন, যা গত ২১ মার্চের পরে সবচেয়ে কম। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০৭২ জন। চিকিৎসাধীন এক লক্ষ ৬ হাজার ৬০৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৪১ জন বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি।

তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪০ হাজার ১৬৪ জন।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ২৩১ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে এগার হাজার ৬০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৪ জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৪১ জন। আজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১০৫ জন, যা গতকালের চেয়ে দ্বিগুন। মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৮ হাজার ৩৯৬ জন।

প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, মনে সাহস জোগাতে প্রায় প্রতিদিনই সান্ত্বনা দিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিচ্ছেন। কারো যেন মনোবল এখনই দুর্বল হয়ে না যায়। করোনা মোকাবিলায় জনগণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

লোম্বারদিয়ার প্রেসিডেন্ট আত্তিলিয়ো ফোনতানা বলেন, মিলান শহরের পত্রিকার দোকানগুলোতে বিনামূল্যে মাক্স দেয়া হচ্ছে। যাদের মাক্সের প্রয়োজন তাদের তিনি শহরের পত্রিকার দোকানগুলো থেকে সংগ্রহ করতে বলেছেন।

উল্লেখ্য, লোম্বারদিয়া অঞ্চলে বাইরে গেলে মাক্স ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে আজ ভেনেতো অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট লুকা জাইয়া বলেন, এ অঞ্চলে ৪ মে লকডাউন তুলে নেয়া হবে। হয়তো তার আগেও তুলে নেয়া হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here